হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়

3492_itlivesupportbd.wordpress.comহ্যাকিং প্রতিরোধে কিছু সাধারণ বিষয়ের প্রতি সবারই নজর দেয়া উচিত। কারণ আমাদের সবার অনলাইন অ্যাকাউন্টই কমবেশি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। হ্যাকিং করে আছে। সম্প্রতি হ্যাকিংয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য হ্যাকারদেরই দেয়া সাতটি মূল্যবান পরামর্শ প্রকাশ করেছে সিএনএন। যেহেতু খোদ হ্যাকারদেরই দেয়া এই পরামর্শ, তাই এটি মেনে চললে আপনি অনলাইনে সুরক্ষিত থাকবেন বলেই আশা করা যায়।

ফেসবুক হ্যাকিং প্রতিরোধ 
কাউকেই নিজের পাসওয়ার্ড জানাবেন না। আর নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার করে ওয়েবসাইট দেখার ব্যাপারটা সব সময়ই অগ্রগণ্য। কাজ শেষে অ্যাকাউন্ট থেকে লগ-আউট বা বের হতে ভুলবেন না।
নিউজ ফিডে থাকা সন্দেহজনক কোনো ওয়েব ঠিকানার লিংকে ক্লিক করবেন না। নিশ্চিত না হয়ে কোনো অ্যাপ, গেম বা ভিডিও দেখার লিংকে ক্লিক না করাই ভালো। তৃতীয় পক্ষের কোনো প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশের অনুমতি চাইলে সেগুলো পরিহার করতে হবে। কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলে ফেসবুক থেকে সেটি মুছে দিন।
নিজের অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত আরেকটি ই-মেইল ঠিকানা যোগ করুন। কোনো কারণে নিজের প্রোফাইল হ্যাকড হলে সেই ই-মেইলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের তথ্য পাঠিয়ে দেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
অপরিচিত কারো বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করার আগে যাচাই করে নিন। নিজেদের মধ্যে চেনাজানা ছাড়া কাউকে বন্ধু বানানো মানে তাকেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দেখার অনুমতি দিয়ে দিলেন। এ ছাড়া কোনো আর্থিক বা ব্যক্তিগত গোপন তথ্য জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট না করাই ভালো।
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। প্রতিবার নতুন একটি পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ড হিসেবে নিজের জন্মতারিখ, ফোন নম্বর বা জন্মস্থানের নাম দেবেন না। ফেসবুক সেটিংস থেকে লগইন নোটিফিকেশন অপশনটি চালু করতে ভুলবেন না।
কম্পিউটারের নিরাপত্তাবিষয়ক সফটওয়্যারগুলো সব সময় হালনাগাদ করে রাখুন। বর্তমানে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার সহজতম উপায় হলো ফিশিং আক্রমণ। এ জন্য ফিশিং সাইটগুলোকে ধরার জন্য সব সময়ই বিশ্বস্ত কোনো অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এর ফলে ক্ষতিকর কি-লগার (যে প্রোগ্রাম গোপনে আপনার কম্পিউটারের প্রতিটি বোতাম চাপার তথ্য লিপিবদ্ধ করে হ্যাকারকে পাঠিয়ে দেয়) থেকেও কম্পিউটার রক্ষা পাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভাইরাস ডেটাবেস হালনাগাদ করা, ফায়ারওয়াল চালু রাখা, সর্বশেষ সংস্করণের ব্রাউজার ব্যবহার এবং সময়ে সময়ে অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা হালনাগাদ নামিয়ে ইনস্টল করা।
সর্বোপরি ফেসবুক অনেকটা ভালো কোনো বন্ধুর মতো। তাই একে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত আর নিরাপদ রাখতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করা উচিত।
সম্প্রতি রাশিয়ার হ্যাকাররা ৪৯ লাখ ৩০ হাজার জিমেইল অ্যাকাউন্টের ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড চুরি করে তা অনলাইনে প্রকাশ করেছে। যেসব গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগ ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এখনো অ্যাকাউন্টে ঢোকা যাচ্ছে বলেই হ্যাকারদের দাবি। গুগলের মেইল সার্ভিস জিমেইল, গুগল ড্রাইভ, ইউটিউব, ম্যাপ প্রভৃতি সেবার ক্ষেত্রেও চুরি করা অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যবহার করে কাজে লাগাতে পারে দুর্বৃত্তরা। যদিও গুগল কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের কথা অস্বীকার করেছে। কারণ গুগলের স্বয়ংক্রিয় অ্যান্টি-হাইজাকিং সিস্টেম এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে গেলে তা বন্ধ করে দেবে। গুগল দাবি করেছে, তারা গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়টি অবগত। তবে গুগলের কোনো সিস্টেম হ্যাক করতে পারেনি সাইবার দুর্বৃত্তরা। ম্যালওয়্যার বা ফিশিংয়ের মাধ্যমে লগ ইন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে দুর্বৃত্তরা।

হ্যাকিং প্রতিরোধে গুগলের পরামর্শ 
আপনার জিমেইলের জন্য স্বতন্ত্র একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এই পাসওয়ার্ড যতটা সম্ভব জটিল করুন। অক্ষর, সংখ্যা, চিহ্ন মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করা যায়। অ্যাকাউন্ট যদি হ্যাক হয়ে থাকে তবে তা পুনরুদ্ধার করতে মোবাইল ফোন নম্বর ও রিকভারি মেইল ব্যবহার করুন।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দ্বিস্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন। দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে অ্যাপলের পাঠানো আরো একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
গুগলের g.co/accountcheckup এই লিংক থেকে অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি পাবেন। সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ওয়াইফাই বন্ধ
সব সময় ফোনের ওয়াইফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখবেন না। হ্যাকারদের ঝোঁকই হচ্ছে এ ধরনের সুযোগ খোঁজা। সব সময় ওয়াইফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কী আছে, তা দেখার জন্য চেষ্টা চালায়। সব সময় চালু রাখলে আগে কোন কোন নেটওয়ার্কে আপনি সক্রিয় ছিলেন হ্যাকাররা তা জানতে পারেন। আগের সেই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে হ্যাকাররা প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। হ্যাকাররা আগের নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করে আপনার ফোনকে আগের কোনো ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়। একবার এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে হ্যাকাররা ফোনে অসংখ্য ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেন এবং আপনার অজান্তেই ফোন থেকে তথ্য চুরি, নজরদারির মতো কাজগুলো চালিয়ে যান। তাই যখন প্রয়োজন থাকে না, তখনই ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন।

দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার
দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরো একটি কোড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল ফোন থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন কোনো যন্ত্রে যখনই লগ ইন করতে যাবেন, তখন পাসওয়ার্ড দেয়ার পর একটি গোপন কোড চাওয়া হবে। এটি কেবল আপনার ফোনে তৎক্ষণাৎ পাবেন। যদি হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জানেন, তবে আপনার মোবাইলে আসা কোড না জানা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না।

স্মার্ট পাসওয়ার্ড
যেসব অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইটে আপনার স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে, সেগুলোতে দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করে তুলুন। প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে ‘লাসপাস’ বা ‘পাসওয়ার্ড সেফ’ কাজে লাগতে পারে। প্রতি বছর অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

এইচটিটিপিএস ব্যবহার
প্রতিটি ওয়েবসাইট ব্রাউজের সময় এইচটিটিপিএস ব্যবহার করুন। এইচটিটিপিএস ব্যবহার করতে ‘এইচটিটিপিএস এভরিহোয়্যার’ টুলটি ব্যবহার করতে পারেন। এই টুলটি আপনার ব্রাউজারের সব তথ্য এনক্রিপ্ট করে। আপনি যদি অ্যাড্রেস বারে শুধু এইচটিটিপি ব্যবহার করেন, তবে যে কেউ আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজের বিষয়ে নজরদারি করতে পারে।

ওয়াইফাই সেটআপ
ওয়াইফাই সেটআপের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড দিন। ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। সিকিউরিটি এনক্রিপশন দেয়ার বেলায় ডব্লিউপিএ-২ নির্বাচন করে দিন। বেশির ভাগ রাউটারে ওয়্যারড ইকুভ্যালেন্ট প্রাইভেসি (ডব্লিউইপি) বা ওয়্যারলেস প্রটেকটেড অ্যাকসেস (ডব্লিউপিএ) ডিফল্ট আকারে দেয়া থাকে। যেকোনো মূল্যে এ এনক্রিপশন বাদ দিন।

ওয়াইফাই আড়াল নয়
আপনার হোম রাউটার সেটিংসের সময় আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘হাইড দ্য এসএসআইড়ি’ আপনি যদি আপনার ওয়াই-ফাইকে আড়াল করার জন্য ‘ইয়েস’ নির্বাচন করে দেন, তখন আপনার মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ হোম নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে সক্রিয়ভাবে স্ক্যান করতে থাকে। সংযোগ পেলেও সব সময় নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য আপনার যন্ত্র স্ক্যান চালিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোপন একটি প্রকল্পের ওয়াই-ফাই হ্যাকার বেন স্মিথ বলেন, ‘নিরাপত্তার কথা ভাবলে এসএসডি লুকানোর মাধ্যমে আপনি নিজেকে পাঁচ বছর পুরনো প্রযুক্তির কাছে সমর্পণ করেন।’

ইন্টারনেট-নির্ভর প্রযুক্তিপণ্য কিনতে সচেতনতা
বাজারে ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্য এলে অনেকেই তা কেনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্য বাজারে আনার জন্য যেভাবে তড়িঘড়ি চালায় প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তত গুরুত্ব দেয় না। হ্যাকার স্ট্যানস্লাভ বলেন, ‘ইন্টারনেট সুবিধার এমন পণ্য নিরাপদ এ কথা বলার জন্য বলা হলেও আদতে তা নয়। তাই ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্যগুলো নিরাপদ কি না, তা দেখে কেনা উচিত।’

ছবি সুরক্ষার কৌশল
সম্প্রতি অ্যাপলের আইক্লাউড থেকে তারকাদের নগ্ন ছবি ফাঁস করেছিল সাইবার দুর্বৃত্তরা এবং পরে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। অ্যাপলের এই অনলাইন সেবা থেকে হলিউডের তারকাদের ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও ফাঁস হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে অ্যাপল। এতে অ্যাপলের আইক্লাউড সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইফোনে ছবি তুলছেন দুই তারকা। অনলাইনে ছবি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা।
প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপলের ক্লাউড সার্ভিসে রাখা তারকাদের গোপন ছবি ফাঁস করতে অ্যাপলের নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে সাইবার দুর্বৃত্তরা। তাদের ধারণা, অ্যাপলের ‘ফাইন্ড মাই ফোন’ ফিচারটির ত্রুটিকে কাজে লাগিয়েই তারকাদের আইক্লাউড অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। অবশ্য অ্যাপল এক বিবৃতিতে সিস্টেম হ্যাকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। অ্যাপলের দাবি, তারকাদের ফিশিং মেইল পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। ঘটনা যা-ই হোক না কেন কয়েকটি কৌশল মেনে চললে তারকারা সহজেই অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়টি এড়াতে পারতেন। অনলাইনে তথ্য চুরির ঘটনা ঠেকাতে ৯ কৌশল মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত
মোবাইলে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখুন। ফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে গোপন ছবিগুলো অন্তত গোপন থাকবে বলেই আশা করা যায়। আপনার ফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ হয় তবে ফোনের পাসওয়ার্ড সেট করতে সেটিংস অ্যাপ্লিকেশনে যান এবং সিকিউরিটিতে চাপ দিন। সেখান থেকে স্ক্রিন লক বা আপনার পছন্দের পদ্ধতিটি বেছে নিন। সেখানে পাসওয়ার্ড, পিন, সোয়াপ, ফেসিয়াল রিকগনিশন বা অন্য কোনো অপশন থাকলে তা বেছে নিন। অ্যাপলের আইওএসের ক্ষেত্রে সেটিংস থেকে টাচ আইডি অ্যান্ড পাসকোডে যান এবং পাসকোড চালু করুন। এরপর জটিল কোনো পাসওয়ার্ড দিন।

ক্লাউড নয়
সব ধরনের ছবি সংরক্ষণ করতে ক্লাউড ব্যবহার না করাই ভালো। অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার তথ্য ক্লাউড বা ডেস্কটপে ব্যাকআপ রাখতে পারে। স্পর্শকাতর তথ্য সুরক্ষায় তাই আপনাকে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় বিষয়গুলো সেটিংস থেকে ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করে দেয়া লাগবে। আইক্লাউড বন্ধ করার ক্ষেত্রে অ্যাপলের অফিশিয়াল গাইডলাইন এ ক্ষেত্রে আপনার কাজে লাগবে। গুগল হেল্প থেকেও ক্লাউডে তথ্য রাখার নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শ পেতে পারেন।

লগ ইনে জটিল পাসওয়ার্ড
এই কৌশলটিকে সবচেয়ে কার্যকর কিন্তু সবচেয়ে বিরক্তিকর কৌশল বলছেন প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। এই কৌশলটি হচ্ছে অ্যাকাউন্টের লগ ইন পাসওয়ার্ড হিসেবে জটিল পাসওয়ার্ডের ব্যবহার। যে অ্যাকাউন্টে স্পর্শকাতর তথ্য থাকবে সেই অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড যথেষ্টই জটিল করতে হবে। সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড এড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছয় বা সাত অক্ষরের বাক্যাংশ যা সহজেই মনে থাকে কিন্তু অনুমান করা কঠিন হয় তা পাসওয়ার্ড হিসেবে বেছে নেয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ স্টু সোয়ারম্যান। পাসওয়ার্ড জটিল হলে হ্যাকাররা তা সহজে ভাঙতে না পেরে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার আশা ছেড়ে দেয় এবং সহজ পাসওয়ার্ডযুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। মেইল অ্যাড্রেস তৈরির সময় সহজে যাতে অ্যাকাউন্ট মালিক শনাক্ত করা বা ইউজারনেম শনাক্ত করা না যায় সে বিষয়টিও খেয়াল করতে হবে। লাস্ট পাস বা মাস্ক মির মতো ক্লাউডভিত্তিক পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যায়।

দ্বিস্তর শনাক্তকরণ
অনলাইনে আপনি যে যে সার্ভিস ব্যবহার করেন তাতে যদি দ্বিস্তর যুক্ত শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ থাকে তা কাজে লাগাবেন। ম্যাকাফির অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রবার্ট সিসিলিয়ানোর পরামর্শ হচ্ছে এটা। তার মতে, দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে অ্যাপলের পাঠানো আরো একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কম্পিউটার বা অন্য যন্ত্রে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ না করাই ভালো। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে। দুই স্তরের নিরাপত্তা সেটিংসের বিষয়টি অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয় না। গুগল অ্যাকাউন্টে দ্বিস্তরের নিরাপত্তা যুক্ত করার জন্য গুগল এই লিংকে পরামর্শ দিয়েছে।
(https://www.google.com/landing/2step)  অ্যাপলের পরামর্শ পাবেন এই লিংকে(http://support.apple.com/kb/ht5570)

 

ফিশিং এড়িয়ে চলুন

ফিশিংয়ের কবলে পড়বেন না। সাইবার দুর্বৃত্তরা আপনাকে প্রতারণার জালে আটকাতে না প্রলোভন বা ছদ্মবেশ ধরতে পারে। মানুষের দুর্বলতা হচ্ছে তারা সহজেই হ্যাকারদের হাতে পাসওয়ার্ড তুলে দেন। ফিশিং হচ্ছে খুব সাধারণ সাইবার প্রতারণা। ফিশিং বলতে প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করাকে বোঝানো হয়। দুর্বৃত্তরা এই পদ্ধতিতে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট সেজে মানুষের কাছ থেকে তথ্য চুরি করে থাকে। ইমেইল ও ইন্সট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে সাধারণত ফিশিং করা হয়ে থাকে। দুর্বৃত্তরা তাদের শিকারকে কোনোভাবে ধোঁকা দিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। এরপর ধোঁকা দিয়ে ব্যবহারকারীর ইমেইল, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডের আসল ওয়েবসাইটের চেহারা নকল করে থাকে। ব্যবহারকারীরা সেটাকে আসল সাইট ভেবে নিজের তথ্য প্রদান করলে সেই তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে দুর্বৃত্তরা।

ইমেইলে এমন কোনো অ্যাটাচমেন্ট পান যা আপনি না চাইতেই চলে এসেছে বা আপনার কোনো প্রয়োজন নয় তবে তা ক্লিক করা থেকে বিরত থাকবেন। সূত্র নিশ্চিত না হয়ে অজানা কারো মেইলের অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করবেন না। আপনি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার অনুরোধ না করলেও যদি পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ পান তবে তা করবেন না। এ ধরনের স্প্যাম মেইল ক্লিক করবেন না। কোনো মেইল স্প্যাম বলে সন্দেহ হলে তা স্প্যাম বলে নির্বাচিত করে দিন।

সূত্রঃ অন্য দিগন্ত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s